কেন রোজ ডিম খাওয়া উচিত ? | Aura of Love

কেন রোজ ডিম খাওয়া উচিত ?

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

সস্তায় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার ডিম ছাড়া এ বিশ্বে আর অন্য কিছু আছে বলে মনে হয় না।উন্নতশীল দেশে বছরে যেখানে ২৮০ থেকে ৩১০টি করে ডিম মাথাপিছু খাওয়া হয়, সেখানে ভারতের মত দেশে অপুষ্টির মোকাবিলার জন্য দিনে অন্তত ৩০ গ্রাম অর্থাৎ অর্ধেকটা করে ডিম খাওয়া উচিত। বছরে মাথাপিছু ১৮৩টি করে ডিম খাওয়ার কথা।

খাওয়ার পাতে ডিম অনেকেরই রোজের সঙ্গী। কেউ একটা খান, কারও একটাতে মন ভরে না। ডিম আরামসে খান ভয় নেই। ডিমে আছে ভিটামিন এ , ই , ডি , বি ১২ , বি ৬। এছাড়াও ক্যালরি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, থিয়ামিন, কোলিন, আয়রন, জিঙ্ক ইত্যাদি উপাদান। এই উপাদান সমুহ মানবদেহের জন্য খুবই জরুরি।

কেন রোজ ডিম খাবেন

মাতৃদুগ্ধের পরই উচ্চ মার্গের প্রোটিন সম্পন্ন খাবার হল ডিম। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ডিমের কুসুম খুবই উপকারি। ডিমের হলুদ অংশে কোলিন থাকে। নিয়মিত ডিম খেলে হার্টের রোগ দেখা দেয় না। ডিমের কুসুমে থাকা কোলেসটরল হল ‘ইমালসিফায়েড ফ্যাট’, ডিমের কুসুমে থাকা লেসিথিন তাকে শরীরে হজম করিয়ে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগায়। তাই রক্তে খারাপ কোলেসটরেল কমে যায়।

ডিমের কুসুমে থাকে কোলিন। যা ভ্রূণাবস্থায় ব্রেনের বিকাশের জন্য খুবই দরকার। তাই গর্ভবতী মহিলাদের ডিম খেতে বলা হয়। এই সময় মেয়েদের শরীরে কোলিন কমে যায়। ডিম কোলিনের সেই ঘারতি পূরণ করে থাকে সহজেই। এছাড়া বয়সকালে শরীরে কোলিনের অভাব ঘটে, ডিম এই অভাব দূর করে।

শিশুদের পুষ্টি ও বিকাশের ক্ষেত্রে ডিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বয়স ৮ মাস পেরলেই সে ডিম খেতে পারে। প্রথমে সেদ্ধ ডিমের কুসুম তারপর ধীরে ধীরে গোটা ডিম খেতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন এ, ই, ডি’ র পরিমান শরীরে বাড়ে যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। ছোটবেলায় শরীর যদি পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি পায়, তাহলে বড়বেলায় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।একজন মহিলার জন্য দিনে ৯০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন দরকার। পুরুষের জন্য ৭০০ মাইক্রোগ্রাম। একটা গোটা ডিম খেলে ৭৫ মাইক্রোগ্রামের মত ভিটামিন পায় শরীর।

ডিমের সাদা অংশে বেশি প্রোটিন থাকে একথা ঠিক, তা বলে ডিমের হলুদ অংশ পরিত্যাগ করবেন না। ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশে ৯৯ শতাংশ জিঙ্ক, ৯০ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ৯৫ শতাংশ ফোলেট, ৪৩ শতাংশ প্রোটিন থাকে। যা শরীরের জন্য প্রয়োজন। অন্য দিকে ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন থাকে বেশি। ডিমের সাদা অংশে বেশি প্রোটিন থাকে বলে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের সাদা অংশই অনেকটা করে রোজ খেতে বলা হয়।

ডিম খেলে মোটা হয়ে যায় এ ধারনা সঠিক নয়। বরং কুসুম- সহ ডিম খেলে রোগা হয়। ডিম ওজন কমায়। ডিম খেলে করোনারি হার্ট ডিজিজ অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের সঞ্চালক ধমনীতে ব্যাঘাত-জনিত রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ডিম ডায়াবেটিকদের কোন ক্ষতি করে না। তাছাড়া ত্বকের পুষ্টি, চুলের পুষ্টির ক্ষেত্রে ডিম উপকারি। চেখের জন্য ডিমের সাদা অংশ উপকারি।

ডিম যে স্বাস্থ্যের  জন্য উপকারি সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে আপনরা ডিমের সাদা অংশ খাবেন না হলুদ অংশ, বা দুটোই বা আদৌ খাবেন কিনা সেটা সম্পূর্ণ আপনার বিষয়। দ্বিধা থাকলে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নিন।সিদ্ধান্ত আপনার। আমরা শুধু ডিমের উপকারিতার প্রকৃত ছবি তুলে ধরলাম মাত্র।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Article

Recent Article

Vastu Tips: কু-নজর থেকে বাঁচতে গাছ লাগান, জেনে নিন বাস্তু মতে কোন গাছ শুভ

জ্যোতিষ (Astrology) মতে, মানুষের কু-নজরে অনেক সময়ই ক্ষতি হতে পারে। তাই মেনে চলা উচিত কিছু টিপস (Tips)। বাস্তুশাস্ত্রেও বর্ণিত আছে, কু-নজরের কথা। বাস্তু মতে লোকের

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত পান করুন কিশমিশ ভেজানো জল

আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে ইতিমধ্যে কিশমিশ না থাকে, তবে প্রতিদিন কিশমিশ জল পান করা শুরু করুন। এটি আপনার ডায়েটে যোগ করা খুবই লাভজনক প্রমাণিত হবে আপনার

Astrological Tips: জ্যোতিষ মতে বাড়িতে ঘোড়ার খুর রাখা শুভ, জেনে নিন ঘোড়ার খুর রাখলে কী হয়

অনেকেরই বাড়িতে সদর দরজার ঠিক ওপরে ঘোড়ার খুর (Horseshoe) আটকানো থাকে। শাস্ত্র মতে, এই ঘোড়ার খুর দরজার ওপরে লাগালে তা নেগেটিভ শক্তি প্রবেশে বাধা দেয়।

প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে যৌনতায় জড়াচ্ছেন? খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলির দিকে

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি শারীরিক সম্পর্ক অনেকেই রাখতে চান, অনেকেরই যৌন মিলনের আসক্তি থাকে। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, বন্ধুর প্রতি শারীরিক অন্তরঙ্গতা অস্বাভাবিক কিছু নয়, দুজনের মধ্যে

Vastu Tips: ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলাকালীন এই কয়টি বাস্তু টোটকা মেনে চলুন

ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলাকালীন কাজে উন্নতি করতে মেনে চলুন এই টোটকা (Tips)।  অনেক সময় বাস্তু দোষেও (Vastu Dosh) ভালো ফলাফলে বাধা আসে। তাই এই টোটকা

Astrology Tips: চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া আগে এই টোটকা মেনে চলুন

পরিশ্রম (Heard Work) সত্ত্বেও কোনও লাভ হচ্ছে না। একের পর এক ব্যর্থতায় হতাশা গ্রাস করছে আপনাকে। এমন সময় মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বার বার

error: Content is protected !!