fbpx

Rath Yatra 2021: কী ভাবে পুরীতে স্থাপিত হলেন জগন্নাথ? জেনে নিন রথযাত্রার দিনেই

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

AOL Desk:  তখন দ্বাপর যুগ। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর অনেকদিন কেটে গিয়েছে। একদিন দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণ গাছের নীচে বসে ছিলেন। সেই সময় তাঁর রাঙা চরণকে পাখি ভেবে ভুল করে বাণ মারে জরা নামে এক শবর। শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর খবর পেয়ে অর্জুন ছুটে আসেন দ্বারকায়। দেহ সৎকারের সময় অর্জুন দেখলেন, গোটা দেহটা পুড়লেও নাভি পুড়ছে না! তখনই হয় দৈববাণী, ‘ইনিই সেই পরমব্রহ্ম। অর্জুন, এঁকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করো। সমুদ্রেই ওঁর অনন্তশয়ান।’ অর্জুন তাই করলেন।

ঢেউয়ের মাথায় ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলল পরমব্রহ্ম সেই নাভি। আর অনুশোচনায় পুড়তে পুড়তে তাঁকে লক্ষ্য করে সমুদ্রের তীর ধরে ছুটে চললেন সেই শবর, যাঁর বাণে মৃত্যু হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের। দ্বারকা থেকে পুরী পর্যন্ত ছুটে অবশেষে সেখানেই শ্রীকৃষ্ণকে স্বপ্ন দেখলেন তিনি, তাঁর স্বপ্নে দেখা দিয়ে কৃষ্ণ বলেন, ‘কাল ভোরে আমাকে তুলে নে। এখন থেকে তোর বংশধর শবরদের হাতেই পুজো নেব আমি’। সেই থেকে নীলমাধব রূপে তিনি পূজিত হতে থাকলেন শবরদের কাছে।

এরপর এলো কলি যুগ। কলিঙ্গের রাজা তখন ইন্দ্রদ্যুম্ন দেব। বিষ্ণুর ভক্ত ইন্দ্রদ্যুম্ন শ্রীক্ষেত্রে একটি মন্দির গড়ে তুললেন। এখন আমরা তাকে চিনি জগন্নাথধাম রূপে। কিন্তু সেই মন্দিরে তখন বিগ্রহ নেই! রাজসভায় একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি জানতে পারলেন বিষ্ণুরই আর এক রূপ নীলমাধবের কথা। নীলমাধবের সন্ধানে চারদিকে লোক পাঠালেন রাজা। বাকিরা খালি হাতে ফিরে এলেও, ফিরলেন না বিদ্যাপতি। তিনি জঙ্গলের মধ্যে পথ হারালে তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়ি নিয়ে এলেন শবর রাজ বিশ্ববসুর কন্যা ললিতা। ললিতার প্রেমে পড়ে তাঁকে বিয়ে করলেন বিদ্যাপতি। বিয়ের পর বিদ্যাপতি দেখলেন রোজ সকালেই শবররাজ কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথাও যান। রোজ সকালে কোথায় যান বিশ্ববসু! স্ত্রীকে প্রশ্ন করে বিদ্যাপতি জানতে পারলেন যে জঙ্গলের মধ্যে একটি গোপন জায়গায় নীলমাধবের পূজো করতে যান বিশ্ববসু।

উত্‍সাহিত হয়ে বিদ্যাপতি ঠিক করলেন নীলমাধবের সন্ধান যখন পাওয়া গিয়েছে, তখন আর হাতছাড়া করা যাবে না। নীলমাধবকে দর্শন করার বায়না ধরলেন তিনি। বিশ্ববসু প্রথমে রাজি না হলেও অবশেষে মত দিলেন। তবে শর্ত দিলেন যে বিগ্রহ পর্যন্ত চোখ বেঁধে যেতে হবে বিদ্যাপতিকে। তাতেই রাজি বিদ্যাপতি। জামাতা হলেও বিদ্যাপতিকে কোনও ভাবে নীলমাধবের সন্ধান দিতে রাজি ছিলেন না তিনি। চোখ বাঁধা অবস্থায় যাওয়ার সময় বিদ্যাপতি গোটা পথে সরষের দানা ছড়াতে ছড়াতে গেলেন। যথাস্থানে পৌঁছে যখন তিনি দর্শন পেলেন নীলমাধবের, তখন তাঁর প্রাণ আনন্দে ভরে উঠল। বনের মধ্যে পুজোর ফুল কুড়িয়ে এনে বিশ্ববসু যখন পুজোয় বসলেন, তখন দৈববাণী হল, ‘এতদিন আমি দীন-দুঃখীর পূজো নিয়েছি, এবার আমি মহাউপাচারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পূজো নিতে চাই।’

ভীষণ রেগে গেলেন শবররাজ। ইষ্টদেবতাকে হারাবার দুঃখে বন্দি করলেন বিদ্যাপতিকে। কিন্তু কন্যা ললিতার বারবার কাকুতি মিনতিতে বাধ্য হলেন জামাতাকে মুক্ত করতে। বিদ্যাপতিও সঙ্গে সঙ্গে এই খবর পৌঁছে দিলেন রাজার কাছে। ইন্দ্রদ্যুম্ন মহানন্দে জঙ্গলের মধ্যে সেই গুহায় পৌঁছে গেলেন নীলমাধবকে সাড়ম্বরে রাজপ্রাসাদে আনতে। কিন্তু একি, নীলমাধব কোথায়! আটক হলেন শবররাজ। তখন দৈববাণী হল যে সমুদ্রের জলে ভেসে আসবে কাঠ। সেই থেকেই বানাতে হবে বিগ্রহ। হাজার হাজার হাতি,ঘোড়া, সেপাই, লোক-লস্কর নিয়েও সমুদ্র থেকে তোলা গেল না সেই কাঠ।

শেষে কাঠের একদিক ধরলেন শবররাজ আর একদিক ব্রাহ্মণ পুত্র বিদ্যাপতি। জগন্নাথের কাছে ব্রাহ্মণ-শবর কোনও ভেদাভেদ নেই যে! মহারাজ তাঁর কারিগরদের লাগালেন মূর্তি গড়তে। কিন্তু সেই কাঠ এমনই পাথরের মত শক্ত যে ছেনি, হাতুড়ি সবই ভেঙে যায়। তা হলে উপায়! মূর্তি গড়বে কে? মহারাজের আকুলতা দেখে বৃদ্ধের বেশে হাজির হলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। তিনি মূর্তি গড়তে রাজি হলেন কিন্তু শর্ত একটাই। ২১ দিন আগে তিনি নিজে দরজা না খুললে কেউ যেন তাঁর ঘরে না আসে।

শুরু হল কাজ। ইন্দ্রদ্যুম্নের রানি গুন্ডিচা রোজই রুদ্ধ দুয়ারে কান পেতে শোনেন কাঠ কাটার ঠক্ ঠক্ শব্দ। ১৪ দিন পর হঠাৎ রানি দেখলেন রুদ্ধদ্বার কক্ষ নিস্তব্ধ। কী হল! কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে রাণি মহারাজকে জানাতেই ইন্দ্রদ্যুম্ন খুলে ফেললেন কক্ষের দরজা। ভেতরে দেখেন বৃদ্ধ কারিগর উধাও, পড়ে আছে তিনটি অসমাপ্ত মূর্তি। তাদের হাত, পা কিছুই গড়া হয়নি। গর্হিত অপরাধ করে ফেলেছেন ভেবে দুঃখে ভেঙে পড়লেন রাজা। তখন তাঁকে স্বপ্ন দিয়ে জগন্নাথ বললেন যে এরকম আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তিনি এই রূপেই পূজিত হতে চান।

সেই থেকেই শ্রী জগন্নাথদেবের মূর্তি ওভাবেই পূজিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। জগন্নাথের প্রধান উৎসব হল রথযাত্রা। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ বোন সুভদ্রা ও দাদা বলরাম বা বলভদ্রকে নিয়ে রথে চড়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি যান। সেখান থেকে সাতদিন পরে আবার নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন। এই যাওয়াটাকেই জগন্নাথের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে। রথের দিন তিনটি রথ পর পর যাত্রা করে মাসির বাড়ি। প্রথমে যায় বলরামের রথ, তারপর সুভদ্রা এবং সবশেষে জগন্নাথের রথ। রথে চড়ে এই গমন ও প্রত্যাগমনকে সোজা রথ এবং উল্টোরথ বলে।

বাংলায় রথযাত্রা সংস্কৃতির সম্ভবত সূচনা হয়েছিল শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল অর্থাৎ পুরী যাওয়ার পর। চৈতন্যভক্ত বৈষ্ণবরা বাংলায় পুরীর অনুকরণে রথযাত্রার প্রচলন করেন। যাত্রা শব্দের অর্থ গমন। তাই জগন্নাথের রথযাত্রা এবং উল্টোরথ হিন্দু-বাঙালিদের কোনও কাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনার পবিত্র দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপুজোর সূচনাও খুঁটিপুজোর মাধ্যমে হয় এই রথের দিন থেকে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Article

Recent Article

বাস্তু টিপস মেনে ঠাকুরঘর করুন বাড়িতে নইলে সুখ-সমৃদ্ধি ধারে কাছে আসবে না, জেনে নিন

AOL Desk: বাড়ির যেখানে সেখানে পুজো ঘর করলেই হল না। সঠিক দিশা মেনে ঠাকুর ঘর করতে হয়। তবেই ঘরে আসে সুখ সমৃদ্ধি আসে। এমনই বলছে

অল্প খেলেও অম্বল হয়ে যায়? সারানোর কয়েকটি ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

AOL Desk: সামান্য কিছু খেলেই হল। সঙ্গে সঙ্গে অম্বল! এ সমস্যা তো বাঙালি সঙ্গে নিয়েই চলে। গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ডে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে অম্বলের প্রবণতা দেখা দেয়।

Relationship: সঙ্গী কি অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে? বুঝবেন আচরণের এই লক্ষণগুলি থেকে

AOL Desk: অনেকেই জীবনের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। আপনার সঙ্গী কোন পরকীয়ার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন কিনা চলুন সে বিষয়ে দেখার জন্য কয়েকটি

Sexual Health: সকালে নাকি রাতে, কোন সময়ে শারীরিক সম্পর্ক সুস্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়?

AOL Desk: কেউ ঘুমতে যাওয়ার আগে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে চান। কেউ পছন্দ করেন ঘুম ভাঙার সময়। কিন্তু যৌন সম্পর্কের ইচ্ছার সময় নির্বাচন দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে

Rules For Sawan Vrat : শ্রাবণ-ব্রতয় ভুলেও করবেন না এই ৯ কাজ, ক্ষুব্ধ হন শিব

AOL Desk:  চলছে শ্রাবণ মাস। কথিত আছে এই মাসে ভগবান শিবের পুজো করলে তাঁর কৃপা লাভ করা যায়। শ্রাবণের ব্রত পালন করলে পছন্দসই জীবনসঙ্গী পেতে পারেন

বাস্তু টিপস: সংসারে শান্তি বজায় রাখতে ভুলেও ঘরে রাখবেন না এই কয়েকটি ছবি

AOL Desk: বাস্তু নিয়ম অনুযায়ী আপনার বাড়িতে রাখা প্রত্যেকটি জিনিস এক একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এটি আপনার অবচেতন মনকে প্রভাবিত করে। পজিটিভ চিন্তাভাবনার উৎপত্তি

error: Content is protected !!