fbpx

কপালে তিলক টানার গুরুত্ব অনেক, জেনে নিন অবাক করা তথ্য!

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

AOL Desk: হিন্দু ধর্মে সমস্ত মঙ্গল অনুষ্ঠানে তিলক লাগানোর প্রথা প্রচলিত রয়েছে। চন্দন, কুমকুম, রোলি, ভস্ম, মাটি ইত্যাদির তিলক করা হয় কপালে। এর একাধিক আধ্যাত্মিক, মানসিক এবং শারীরিক লাভও রয়েছে। ১২টি স্থানে তিলক লাগানো হয়। মাথা, ললাট, কণ্ঠ, হৃদয়, দুই বাহু, বাহুমূল, নাভি, পিঠ ইত্যাদি স্থানে তিলক লাগানো হয়ে থাকে। ললাটে তিলক লাগানোর লাভ সম্পর্কে জেনে নিন এখানে।

১. অনামিকা আঙুল দিয়ে তিলক করলে মন ও মস্তিষ্ক শান্তি লাভ করে। মধ্যমার সাহায্যে তিলক করলে আয়ু বৃদ্ধি হয় আবার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে করা তিলক পুষ্টিবর্ধক। তর্জনি দিয়ে তিলক করলে মোক্ষ লাভ করা যায়। বিষ্ণু সংহিতা অনুযায়ী, দেব কাজে অনামিকা, পিতৃ কাজে মধ্যমা, ঋষি কাজে কনিষ্ঠা ও তান্ত্রিক কাজে প্রথমা আঙুল ব্যবহার করা হয়।

২. নানা দ্রব্য দিয়ে তৈরি তিলকের উপযোগিতা ও গুরুত্ব পৃথক পৃথক। কুমকুমের তিলক তেজস্বীতা প্রদান করে। জাফরানের তিলক লাগালে সাত্বিক গুণ এবং সদাচারের ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বৃহস্পতি শক্তিশালী হয় এবং ভাগ্যবৃদ্ধি ঘটে। হলুদের তিলক ত্বক শুদ্ধ করে। পাপ নাশের জন্য চন্দনের তিলক লাগানো হয়। আতরের তিলক লাগালে শুক্র শক্তিশালী হয় এবং ব্যক্তির মন-মস্তিষ্কে শান্তি ও প্রসন্নতা থাকে। গোরচনের তিলক আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায়। গ্রহ দোষ দূর ও লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করার জন্য অষ্টগন্ধের তিলক করা উচিত। বিশুদ্ধ মাটির তিলকে বুদ্ধি ও পুণ্যফল লাভ করা য়ায়। দই বা জলের তিলকে চন্দ্রবলে বৃদ্ধি হয় এবং মন-মস্তিষ্ক শীতল থাকে।

৩. ললাটে তিলক লাগালে মস্তিষ্ক শান্ত ও শীতল হয়। এ ছাড়াও বিটাএন্ডোর্ফিন এবং সেরাটোনিন নামক রসায়নের ক্ষরণে ভারসাম্য থাকে। এই রসায়নের অভাবে উদাসীনতা ও হতাশা জন্মাতে শুরু করে। তিলক উদাসীনতা ও হতাশা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক। এর ফলে মাথা ব্যথাও কম হয়।

৪. যে স্থানে তিলক লাগানো হয় সেখানেই আত্মার অবস্থান। এটি আমাদের আত্মসম্মানের প্রতীক। ললাটে ভুরুযুগলের মাঝে, যেখানে তিলক করে থাকি, সেটিকে অগ্নি চক্র বলা হয়। এখান থেকেই পুরো শরীরে শক্তি সঞ্চার হয়।

৫. ললাটে ভুরুযুগলের মাঝে নাকের শুরুর স্থানে তিলক করা হয়। এটি আমাদের চিন্তন ও মননের স্থান। এর ফলে চিন্তত ও মনন বৃদ্ধি পায়। এতে স্মরণ শক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বৌদ্ধিকতা, তার্কিকতা, সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি হয়।

৬. ললাটের এই অংশ চেতন ও অবচেতন অবস্থাতেও জাগৃত ও সক্রিয় থাকে, একে আজ্ঞা চক্রও বলা হয়। এই দুইয়ের সঙ্গম বিন্দুতে স্থিত চক্রকে নির্মল, বিবেকশীল, অবসাদ মুক্ত রাখার জন্য তিলক লাগানো হয়।

৭. এই বিন্দুতে সৌভাগ্যসূচক দ্রব্য যেমন- চন্দন, জাফরান, কুমকুম ইত্যাদির তিলক লাগালে ব্যক্তি সাত্ত্বিক ও তেজস্বী হয় এবং তাঁর আত্মবিশ্বাসে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি হয়। পাশাপাশি মনে নির্মলতা, শান্তি এবং ধৈর্য বৃদ্ধি পায়।

৮. ললাটে নিয়মিত তিলক লাগালে মস্তিষ্ক শান্ত থাকে এবং স্বস্তি অনুভূত হয়। পাশাপাশি একাধিক মানসিক রোগও ঠিক হয়।

৯. শাস্ত্রে শ্বেত চন্দন, লাল চন্দন, কুমকুম, ভস্ম ইত্যাদির তিলক লাগানো শুভ।

১০. তিলক বিজয়, পরাক্রম, সম্মান, শ্রেষ্ঠতা ও আধিপত্যের প্রতীক। বোনের দ্বারা তিলক লাগালে তাঁর সুরক্ষার জন্য এই সমস্ত গুণের বিকাশ হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Article

Recent Article

Nail Care Tips: নখকে সুন্দর ও মজবুত করে তুলুন ঘরোয়া উপায়ে!

শরীরের অন্যান্য অংশের মত নখেরও বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। যদি আপনি নখের সঠিকভাবে যত্ন না নেন, তাহলে সেগুলি শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে যায় এবং সহজেই

Fish Oil: মানসিক অবসাদে ভুগছেন? খাওয়া শুরু করুন মাছের তেল!

মাছের টিস্যু থেকে তৈরি করা হয় মাছের তেল। আমরা সাধারণত ইলিশ মাছের তেল ভাতের সঙ্গে খেয়ে থাকি। কিন্তু এমন অনেক সামুদ্রিক মাছের তেল রয়েছে যা

Pitri Tarpan: এই ৫ কাজ না করলে তর্পণ হবে বৃথা, জেনে নিন

পিতৃ পক্ষের (Pitri Paksha) সঙ্গে শ্রাদ্ধ এবং তর্পণের পর্বও শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই দিনগুলিতে, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য, পূর্ণ আচারের সঙ্গে পূজা করা হয়। পিতৃদোষ

২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু পিতৃপক্ষ, জানুন এই সময়ের ৫টি জরুরি নিয়ম

বৈদিক ক্যালেন্ডার অনুসারে দেবীপক্ষের আগে ১৫ দিন ধরে চলে পিতৃপক্ষ। এই সময়টা প্রয়াত পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্য নির্দিষ্ট। মনে করা হয় এই সময় প্রয়াত

সফল ভাবে বিয়ে টিকিয়ে রাখার ৫ গুপ্ত মন্ত্র…

‘Happy Couple’ বা সুখী দম্পতি শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এর পিছনে থাকে অনেক পরিশ্রম। আসলে সুখী দম্পতের কিন্তু কোনও গুপ্ত রহস্য নেই। একে অন্যের

গর্ভাবস্থায় এই ভারী কাজগুলো একেবারেই করবেন না, বিপদ হতে পারে

মা হওয়া প্রত্যেক মহিলার কাছে যেমন খুব সুখকর, তেমন আবার প্রতিটা মুহূর্ত খুব চ্যালেঞ্জিং। এই সময় প্রতিটা পদক্ষেপ খুব ভাবনা-চিন্তা করে চলতে হয়, একটু অসাবধান

error: Content is protected !!