fbpx

পিতৃপক্ষে কারা শ্রাদ্ধকর্মের অধিকারী জানেন কি ?জেনে নিন নিয়ম

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

হিন্দু শাস্ত্রে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে আশ্বিন মাসের অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে পিতৃপক্ষ বলা হয়। সমস্ত হিন্দু পরিবারেই পিতৃ পূজন হয়।পিতৃপক্ষের সময়কাল ১৬ দিন। মাঝেমধ্যে এই দিন কম-বেশিও হয়ে থাকে। চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর, অর্থাৎ ১৭ দিন পিতৃপক্ষ থাকবে। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রাদ্ধের কোনও তিথি না-থাকায় শ্রাদ্ধ কর্ম ১৬ দিনই করা সম্ভব হবে। অনেক সময় তিথির কারণে দুটি শ্রাদ্ধ একই দিনে পালিত হয়।

পুরাণ অনুযায়ী জন্মের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির ওপর তিন ধরনের ঋণ— পিতৃ ঋণ, দেব ঋণ, ঋষি ঋণ দেখা যায়। এর মধ্যে পিতৃ ঋণকে সর্বোপরি মনে করা হয়।এই ঋণ থেকে মুক্তির জন্য পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ করা আবশ্যক। এমন করলে পুত নামক নরকের কষ্ট থেকে পূর্বপুরুষরা মুক্তি পান।

পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা ভরে যে দান-কর্ম করা হয়, তা-ই শ্রাদ্ধ। পূর্বপুরুষদের স্মৃতিতে ভোজন দান ছাড়া, গাছ লাগানো এবং তাঁর দেখাশোনা করা, অসহায়ের সাহায্য করা, কোনও রোগীর সাহায্য করা, বস্ত্র দানও শ্রাদ্ধ কর্মেরই অন্তর্ভূক্ত।প্রত্যেক মাসের অমাবস্যাকে পূর্বপুরুষদের দুপুর মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে এদিন দুপুরে ভোজন করার নিয়ম থাকে। আবার প্রতি অমাবস্যাকে পূর্বপুরুষের তিথি মনে করে অন্ন দানের নিয়ম রয়েছে।

কোনও শুভ কাজ, গ্রহণ, পূর্বপুরুষদের মৃত্যু তিথি, তীর্থ যাত্রায় শ্রাদ্ধ করাকে কল্যাণকারী মনে করা হয়। কন্যা রাশিতে সূর্যের উপস্থিতির সময় শ্রাদ্ধ বা কন্যা-গত বা কনাগত করার নিয়ম রয়েছে।শ্রাদ্ধ করার প্রথম অধিকার সাধারণত মৃত ব্যক্তির জ্যেষ্ঠ পুত্রের রয়েছে। তবে সে না-থাকলে বা শ্রাদ্ধকর্ম করতে না-চাইলে ছোট ছেলে শ্রাদ্ধের অধিকারী হয়।

আবার কোনও পরিবারের পুত্রদের মধ্যে বিভাজন হয়ে গেলে, সেই পরিবারের সমস্ত পুত্রকেই পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধকর্ম করা উচিত। পুত্র না-থাকলে পৌত্র বা প্রপৌত্রও শ্রাদ্ধ করতে পারেন। আবার পুত্র না-থাকলে, মৃত ব্যক্তির ভাই শ্রাদ্ধ করতে পারে।

মহিলারাও করতে পারেন শ্রাদ্ধ

কিছু কিছু গ্রন্থে মহিলাদেরও শ্রাদ্ধ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন পুত্র না-থাকলে, ভাইয়ের আগে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর শ্রাদ্ধ করার অধিকার রয়েছে।হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, মৃত পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে কেউ তর্পণ করতে পারেন। সাধারণত পুরুষরাই পিণ্ডদান করলেও মহিলারাও কিন্তু সমান ভাবে পিণ্ডদানের অধিকারী। পুরাণ অনুযায়ী, সীতা দশরথের মৃত্যুর পর রামের অনুপস্থিতিতে তাঁকে পিণ্ডদান করেছিলেন।

অনেকেই আবার বলেন যে শাস্ত্রে কোথাও লেখা নেই যে মেয়েরা তর্পণ করতে পারবে না। শ্রাদ্ধে যেমন শ্রদ্ধা জানানো হয়, তর্পণও তা-ই। মহাভারতেও মেয়েদের তর্পণের নিদর্শন আছে। মহাভারতে স্ত্রী পর্বে কৌরব রমণীদের তর্পণ করার বিশেষ উল্লেখ আছে।

আবার অবিবাহিত থাকলে মৃত ব্যক্তির মা এবং বোনও শ্রাদ্ধ করতে পারেন। পুত্র শ্রাদ্ধ কর্ম করতে না-পারলে পুত্রবধূ তা করতে পারেন।পুত্র ছাড়া পৌত্র ও প্রপৌত্রও পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ কর্ম করার অধিকারী। পৌত্র বা প্রপৌত্র না-থাকলে, ভাই, ভায়ের সন্তানরাও শ্রাদ্ধ করার অধিকারী।এ ছাড়াও মৃত ব্যক্তির মেয়ের পুত্র অর্থাৎ দৌহিত্র পূর্বপুরুষদের উদ্ধার করতে পারে। আবার ভাগ্নেও শ্রাদ্ধকর্ম করার অধিকারী।

দুপুরের আগে শ্রাদ্ধ কর্ম সম্পূর্ণ করে নেওয়া উচিত। শাস্ত্র মতে সঙ্গব কালে শ্রাদ্ধ হয়। পুরো দিনকে ৫টি অংশে ভাগ করলে দ্বিতীয় অংশকে সঙ্গব কাল বলা হয়। অর্থাৎ প্রাতঃরাশ থেকে মধ্যাহ্নভোজের সময় পর্যন্ত সুবিধা অনুযায়ী শ্রাদ্ধ করা যেতে পারে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Article

Recent Article

আর দুদিন পরেই লক্ষী পুজো, জেনে নিন কোন নিয়মগুলি পালনে গৃহস্থে আসে সমৃদ্ধি

উমা চলে যাওয়ায় রীতিমতে ভারাক্রান্ত থাকে বাঙালির মন। চারদিনের আনন্দ মিটিয়ে আবার পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়ার ক্লান্তির মাঝেই আসে লক্ষ্মীপুজো। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ঘিরে ফের আয়োজনে

বেশি খেয়ে ফেলে পেট আইঢাই করছে? জানুন ঘরোয়া টোটকা দিয়ে কীভাবে সামলাবেন

পুজো মানেই জমিয়ে পেট পুজো। এখন করোনার ভয়ে এমনিতেই ঠাকুর দেখায় বাধা পড়েছে। এই অবস্থায় পেট পুজোতেই মন বসিয়েছেন কেউ কেউ। মানে ষষ্ঠী থেকে দশমী,

আপনি থাইরয়েডে আক্রান্ত নন তো? এই ৬টি উপসর্গ দেখলেই সাবধান হোন!

জীবনযাত্রার মান এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে, থাইরয়েডে আক্রান্ত হওয়া আজ খুবই সাধারণ ব্যাপার। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ৮ জন

Korean Beauty Secrets: রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও দাগহীন

কোরিয়ান বিউট্রি ট্রিটমেন্ট ও বিউডি প্রোডাক্টসের অন্যতম উপাদান হল রাইস ওয়াটার। আপনিও যদি কোরিয়ান মহিলাদের সুন্দর, চকচকে ত্বকের প্রেমে পড়ে থাকেন, তাহলে ব্যবহার করুন রাইস

আপনার জন্মমাস অনুযায়ী ধারণ করুন রত্ন, জীবনে সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসবেই!

জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আনতে রত্ন ধারণের রীতি বহু প্রাচীন৷ প্রাচীনকাল থেকেই এটি বিশ্বাস করা হয় যে, বার্থস্টোন পরলে সম্পদ এবং সৌভাগ্য ফিরে আসতে পারে।

error: Content is protected !!