fbpx

Guru Purnima: আগামীকাল গুরু পূর্ণিমা! জানুন দিনটি পালিত করার কারণ ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

AOL Desk: গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল একটি বৈদিক প্রথা, যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে থাকেন। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় গুরু পূর্ণিমা। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই মুণি পরাশর ও সত্যবতীর ঘরে মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম জয়ন্তীও পালন করা হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, তিনিই চারটি বেদের ব্যাখ্যা করেছেন। বেদ বিভাজনের কৃতিত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর নাম বেদব্যাস। ১৮টি পুরাণ ছাড়াও তিনি রচনা করেন মহাভারত (Mahabharat) ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা (Bhagwat Geeta)। এই কারণে গুরু পূর্ণিমাকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, বোধিজ্ঞান লাভের পরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় সারনাথে প্রথম শিষ্যদের উপদেশ দেন গৌতম বুদ্ধ। হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শিব বা মহাদেব হলেন আদি গুরু। সপ্তর্ষির সাতজন ঋষি হলেন তাঁর প্রথম শিষ্য – অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য, মরীচি এবং কেতু (নাম নিয়ে মতভেদ আছে)। শিব এই তিথিতে আদিগুরুতে রূপান্তরিত হন এবং এই সাত ঋষিকে মহাজ্ঞান প্রদান করেন। তাই এই তিথিকে গুরু পূর্ণিমা আখ্যা দেওয়া হয়।

২০২১ সালের গুরু পূর্ণিমার তিথি ও নির্ঘণ্ট

গুরুপূর্ণিমা উদযাপন – ২৪ জুলাই, শনিবার

পূর্ণিমা তিথি শুরু – ২৩ জুলাই, সকাল ১০টা বেজে ৪৩ মিনিটে

পূর্ণিমা তিথি সমাপ্ত – ২৪ জুলাই, সকাল ০৮টা বেজে ০৬ মিনিটে

গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব

‘গুরু’ শব্দটি ‘গু’ এবং ‘রু’ এই দুটি সংস্কৃত শব্দ দ্বারা গঠিত। ‘গু’ শব্দের অর্থ ‘অন্ধকার’ বা ‘অজ্ঞতা’ এবং ‘রু’ শব্দের অর্থ ‘অন্ধকার দূরীভূত করা’। ‘গুরু’ শব্দটি দ্বারা এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় যিনি অন্ধকার দূরীভূত করেন, অর্থাৎ যিনি অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান তিনিই গুরু। গুরু আমাদের মনের সব সংশয়, সন্দেহ, অন্ধকার দূর করেন এবং নতুন পথের দিশা দেখান।

ভারত হল ঋষি-মুনিদের দেশ, যেখানে তাঁদের ঈশ্বরতুল্য বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, ভক্তদের প্রতি ভগবান রুষ্ট হলে গুরুই রক্ষার পথ দেখাতে পারেন। প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশে গুরুদের সম্মানজনক স্থান দেওয়া হয়েছে। গুরুর দেখানো পথে চললে, কোনও ব্যক্তি শান্তি, আনন্দ ও মোক্ষ প্রাপ্ত করতে পারেন। তাই গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে বৈদিক যুগ থেকেই গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমায় গুরুর পূজার্চনা করলে অক্ষয় আশীর্বাদ মেলে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Article

Recent Article

Nail Care Tips: নখকে সুন্দর ও মজবুত করে তুলুন ঘরোয়া উপায়ে!

শরীরের অন্যান্য অংশের মত নখেরও বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। যদি আপনি নখের সঠিকভাবে যত্ন না নেন, তাহলে সেগুলি শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে যায় এবং সহজেই

Fish Oil: মানসিক অবসাদে ভুগছেন? খাওয়া শুরু করুন মাছের তেল!

মাছের টিস্যু থেকে তৈরি করা হয় মাছের তেল। আমরা সাধারণত ইলিশ মাছের তেল ভাতের সঙ্গে খেয়ে থাকি। কিন্তু এমন অনেক সামুদ্রিক মাছের তেল রয়েছে যা

Pitri Tarpan: এই ৫ কাজ না করলে তর্পণ হবে বৃথা, জেনে নিন

পিতৃ পক্ষের (Pitri Paksha) সঙ্গে শ্রাদ্ধ এবং তর্পণের পর্বও শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই দিনগুলিতে, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য, পূর্ণ আচারের সঙ্গে পূজা করা হয়। পিতৃদোষ

২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু পিতৃপক্ষ, জানুন এই সময়ের ৫টি জরুরি নিয়ম

বৈদিক ক্যালেন্ডার অনুসারে দেবীপক্ষের আগে ১৫ দিন ধরে চলে পিতৃপক্ষ। এই সময়টা প্রয়াত পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্য নির্দিষ্ট। মনে করা হয় এই সময় প্রয়াত

সফল ভাবে বিয়ে টিকিয়ে রাখার ৫ গুপ্ত মন্ত্র…

‘Happy Couple’ বা সুখী দম্পতি শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এর পিছনে থাকে অনেক পরিশ্রম। আসলে সুখী দম্পতের কিন্তু কোনও গুপ্ত রহস্য নেই। একে অন্যের

গর্ভাবস্থায় এই ভারী কাজগুলো একেবারেই করবেন না, বিপদ হতে পারে

মা হওয়া প্রত্যেক মহিলার কাছে যেমন খুব সুখকর, তেমন আবার প্রতিটা মুহূর্ত খুব চ্যালেঞ্জিং। এই সময় প্রতিটা পদক্ষেপ খুব ভাবনা-চিন্তা করে চলতে হয়, একটু অসাবধান

error: Content is protected !!